Corona Virus Vaccine কীভাবে তৈরি হবে

Corona Virus  ভ্যাকসিন কীভাবে তৈরি হবে?


প্রতিদিন আপনি Corona Virus নিয়ে এতকিছু শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন, কিন্তু কিছু সাধারন জিনিস আপনার জানা দরকার।
 

Virus কি ?

এই  Virus জিনিসটা হচ্ছে এমন একটা কিছু যেটা আপনার চারপাশের হাওয়া বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রাণহীন অবস্থায়,যেটা আপনি খালি চোখে দেখতে পাছেন না কিন্তু আপনার শরীরে ঢুকলে ওটা জীবন্ত হয়ে যাবে।এদেরকে দেখতে গেলে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের দরকার হয়।
এখন আপনারা নতুন একটি ভাইরাস এর নাম শুনছেন ‘Corona Virus’। এটি কিন্তু একটি ভাইরাস নয় এটি একটা ভাইরাস-এর পরিবারের নাম –এই পরিবারের অনেকগুলি সদস্যদের মধ্যে একটি হছে SARS-CoV-2 যা এখন আমাদের আতঙ্কের কারন।


এই ভাইরাস নিয়ে কিছু কথাঃ

যে রোগটি এখন হছে তার নাম COVID-19 যার পুরো নাম CORONA VIRUS-2019 আর এটির ভাইরাসটির নাম SARS-CoV-2 যার পুরো নাম সারস-করোনা ভাইরাস-ভার্শন-২
কতোটা ভয়ঙ্কর এই ভাইরাস?
অনেক আগে এই পরিবারের যেসব ভাইরাস আক্রমন করেছিল তার থেকে এটি অনেক কম মারনাত্মক । এটিতে প্রতি ১০০জনে ২ জন মারা যায় আগের গুলো তে প্রায় ১৫-২০জন করে মারা যেত।


তাহলে আমরা কেন এত ভয় পাছি এই Virus নিয়ে?

ভয় পাওয়ার কারন তিনটেঃ

  • এটি আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে খুবই বেশি অর্থাৎ ছড়ানোর ক্ষমতা বেশি 
  • এর কোনো ভ্যাক্সিন এখনো বাজারে আসেনি
  • এই নতুন সদস্যটি আমাদের আগে আক্রমন করেনি তাই আমাদের শরীরের কাছে এটি অচেনা তাই ১ম-বার বলে অ্যান্টিবডি গড়ে ওঠেনি শরীরে

 

কিভাবে শুরু হল এই Virus(Source)

এখন যেটির প্রকোপ দেখা যাছে সেটি গত ডিসেম্বর মাসে চীনের Uhan-এ প্রাণী বিক্রেতাদের প্রাণী থেকে বা খাবার থেকে কোনোভাবে ছড়িয়ে পড়ে ।প্রথমে নিউমোনিয়া ভাবলেও WHO তার নিজস্ব ল্যাবে পরীক্ষা করে জানায় এটি করোনা ভাইরাসের নতুন সদস্য যার নাম প্রথমে নভেল বা নতুন করোনা ভাইরাস বললেও পরে এটি সারস এর ভার্শন-২ হয়ে যায়।

এর আগে কি কি ঘটনা ঘটেছে করোনা নিয়ে(History)

২০০৩ সালে এই পরিবারের অন্য একটি সদস্য আক্রমন করেছিল যার নাম CoV-1অর্থাৎ করোনার ভার্শন-1 যা এসেছিল বাদুড় জাতীয় প্রাণী থেকে ।রোগটির নাম ছিল SERS(Severe Acute Respiratory Syndrome )।কিন্তু সেটি ছড়ানোর ক্ষমতা ছিল কম।
২০১২ সালেও এই একই ভাইরাসের জন্য আরব দেশে MERS(Middle East Respiratory Syndrome) রোগ ছড়ায় উট থেকে এবং সেখান থেকে কিছু আক্রান্ত লোক দক্ষিণ কোরিয়াতে যায় এবং ২০১৫ সালে আবার ছড়ায় ওখানে ।


এই নতুন ভাইরাসটি কেমন দেখতে(Structure)

আগেই বলেছি Virusকে খালি চোখে দেখা যায় না ,অতি উচ্চমানের মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখা এই
ভাইরাসটি নীচের ছবিটির মতো দেখতে।

corona virus vaccine


এটি দেখতে গোলাকার। ভেতরে কুণ্ডলী পাকিয়ে Positive RNA আছে এবং বাইরে কাঁটার মতো স্পাইক আছে যেটি কোথাও বসতে বা আটকে যেতে সাহায্য করে


কিভাবে ছড়ায় এই ভাইরাস(Spread)

আক্রান্ত লোকটি হাঁচলে বা কাশলে তার নাক মুখ থেকে কিছু ছোট্ট জলকণা বের হয় তার মধ্যে ভাইরাসটি থাকে নিঃশ্বাস বা হাতের মাধ্যমে সেটি আপনার নাকে প্রবেশ করলে আপনি আক্রান্ত হয়ে যাবেন

আপনার দেহে ঢুকে কি করবে(Entry)

আপনার নাক দিয়ে শ্বাসনালিতে ঢুকে ভেতরে থাকা কোটি কোটি কোশ এর ভেতরে ঢুকে অসংখ্য Virus তৈরি করবে যেটি বেরিয়ে সুস্থ লোককে আবার আক্রান্ত করবে।

কিভাবে প্রতিরোধ করবেন (Prevention)

মুখে মাস্ক পড়ুন হাত সাবান দিয়ে ধোন  এবং খেয়াল রাখুন আক্রান্ত লোককে এড়িয়ে যেতে।
এর চিকিৎসা কি কিছু নেই?
আপাতত নেই ।এর Vaccine বাজারে আনতে কমপক্ষে ১.৫ বছর লাগবে কারণ এর জন্য অনেক টেস্ট করতে হয় বাজারে আনার আগে ।তাই প্রতিরোধই শেষ কথা


কাদের ভয় বেশি?

যাদের রোগকে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কম তাদের ।যেহেতু কম বয়সিদের Immunity Power বেশি হয় তাই বৃদ্ধদের ক্ষেত্রেই এর প্রকোপ বেশি।
তবে একটি সাবধান বানী -যেসব যেসব লোকের বয়স বেশি তার সাথে ডায়াবেটিস ,সুগার,হাপানি ,প্রেশার এই সব আছে তারা খুবই সাবধানে থাকুন।


মিডিয়া কি করছে?

বিভিন্ন media বিজ্ঞানের উপর মশলা মাখিয়ে ক্যাচি হেডলাইন বানাচ্ছে। তাই ঠিক থাক খবর আগে বাছুন.

এই ভাইরাস তাপে কি মরে যাবে(Effect Of Heat)

আপনারা মুরগী বা খাবারদাবার নিয়ে চিন্তিত হবেন না এই ভাইরাস বাঁচে ২৫ °C এ তাই খাবার সঠিক গরম করে খান । কিন্তু ভুল করে গরম জলে স্নান করতে যাবেন না ।চামড়া পুড়ে যেতে পারে।

শেষ কথা ,

এই ভাইরাস নিয়ে জানতে সব সময় বিশ্বাসযোগ্য জায়গা থেকে জানুন যেমন WHO এর ওয়েবসাইট https://www.who.int/ বা সরকারি ওয়েবসাইট থেকে।

কোনো মিডিয়া থেকে জানবেন নাআর হ্যাঁ কয়লা পড়া খাওয়ার মতো কুসংস্কারের কাজ একদমই করবেন না এবং সরকারি আদেশ মেনে চলুন অবশ্যই

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *