লেজার প্রিন্টার কি বা কাকে বলে ?

লেজার প্রিন্টার কি বা কাকে বলে


বর্তমানে প্রিন্টিং এর দুনিয়ায় লেজার প্রিন্টার বহুল ব্যাবহৃত। আজ আমরা জানব লেজার প্রিন্টার কি, লেজার প্রিন্টার কিভাবে কাজ করে, ব্যবহার করার নিয়ম, লেজার প্রিন্টারের দাম এবং  বৈশিষ্ট্য এ সব নিয়ে বিস্তারিত। 

কিন্তু তার আগে আপনি যদি প্রিন্টার নিয়ে না জানেন খুব সহজে জেনে নিতে পারেন –

লেজার প্রিন্টার কি বা কাকে বলে (what is laser printer)

আমাদের মনে একটি ধারণা আছে ,প্রিন্টার তরল কালার ব্যবহার করে কাগজের উপর নির্দিষ্ট অক্ষর গুলি ছাপে।

কিন্তু যদি লেজার প্রিন্টারে কথায় আসা হয়, লেজার প্রিন্টারে কোনো কালির ব্যবহার হয়না তার পরিবর্তে পাউডারের ব্যবহার করা হয়।

” লেজার ” কথাটি শুনেই আমরা বুঝতে পারছি লেজার আলো বা বিম ব্যবহার করা হয়। আসলে এই প্রিন্টারে লেজার ব্যবহার করে পাউডার দিয়ে কাগজের উপর ছাপা হয়ে থাকে।

লেজার প্রিন্টার মূলত দুধরনের পাওয়া যায় –

  • Basic Document laser printer
  • Xerox/Scanner/Printer-All in one Laser Printer

এ সব কিছু শুনে,আপনি বুঝতে না পারলে – আরো সহজে বোঝার জন্য প্রিন্টারের ভেতরে কি কি রয়েছে আমাদের জানতে হবে।  কারণ – সমস্যার  সমাধান করতে সমস্যার গভীরে যাওয়া দরকার।

লেজার প্রিন্টারের গঠন (laser-printer-structure)

1. Photosensitive drum

এই ধরণের প্রিন্টারের main part হিসাবে থাকে একটি photosensitive drum অর্থাৎ প্রিন্টারের ড্রামটি electric current এর প্রতি সংবেদনশীল হয় 

2. Toner

toner মূলত একটি container যার মধ্যে রঙের powder রাখা হয় যার উপরের দিকে পাউডার ঢালার নিচের দিকে বেরোনোর জায়গা থাকে। এটি প্রিন্টারের ড্রামটির সাথে যুক্ত থাকে যাতে সাদা page এর উপর পাউডার ফেলতে পারে। প্রিন্টারে দুটি toner থাকে একটি পাউডার ঢালার জন্য, অন্যটি কাজে না লাগা পাউডারগুলো জমা রাখার জন্য।

3. Laser Light 

লেসার beam এর মূল কাজ হল কম্পিউটারের signal টি লেজার আকারে electrostatic ড্রামের উপর ফেলা।

4. Fuser 

প্রিন্টারের ভেতর জোড়ায় জোড়ায় fuser থাকে। এই ফিউসারের এর মূল কাজ হলো কাগজ ফিউসারের মধ্যে দিয়ে চাপ দিয়ে টেনে নেওয়া।

5. Magnetic Roller 

এই রোলারের কাজ হলো ড্রামটিকে ঘোরানো ও toner এর পাউডারকে আকর্ষণ করা

লেজার প্রিন্টার কিভাবে কাজ করে (how it works)

কম্পিউটার সিগনালের রূপান্তর – প্রিন্টারের প্রথম কাজ হল আপনি যে ছবিটি বা লেখাটি print করতে চাইছেন, সেটিকে  Printer Command Language এ পরিবর্তন করে।

প্রিন্টার পরিবর্তিত ছবিটি ডট আকারে কনভার্ট না করে bitmap আকারে পরিবর্তিত করে। তাতে লেখা বা ইমেজের detailing বা resolution বাড়ে। আমাদের কম্পিউটারের প্রিন্ট করতে বলা ছবিটি বিটম্যাপে convert হবার পর পরিবর্তিত ছবিটিকে বলা হয় ruster image বলা হয়।

Charging বা লেজারের মাধ্যমে ড্রামে পড়া -এই রাস্টার ইমেজটি এখন লেজার বিমের মাধ্যমে এবং আর ও কয়েকটি লেন্সের মাধ্যমে photo electric ড্রামে পড়ে ছবি তৈরী করে।

এখানে আরো কিছু interesting জিনিস ঘটে। যখন লেসার দিয়ে ড্রামে পড়ে ড্রামে ছবির জায়গাগুলো নেগেটিভ charge যুক্ত হয়ে পরে ,যেখানে ছবি নেই ফাঁকা থাকে। সুতরাং ছবির প্রতিচ্ছবিটি ড্রামের উপর চার্জ আকারে তৈরী হয়ে যায়। এর উপর সাদা কাগজ চালানো হয়।

এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে চার্জিং বলে।

Toner powder লেপন – এইখানে আরো কিছু ইন্টারেষ্টিং ঘটনা ঘটে। আমরা জানি বিপরীত চার্জ একে অপরকে আকর্ষণ করে। এখন ছবি যদি negative চার্জ দিয়ে তৈরী হয় ,তাহলে কি হবে ? নিশ্চয় পসিটিভ চার্জ যুক্ত কেউ আকর্ষণ করবে। তাহলে কে আকর্ষণ করবে ?

এইখানে toner এর ভেতর যে কালারের কণা রয়েছে সেগুলো positive চার্জ হয়ে থাকে। toner এর কালার পাউডারগুলি খুবই সুক্ষ হয়ে থাকে।

এই পসিটিভ চার্জের কণাগুলো ড্রামের উপর পড়তে থাকে। ড্রাম ও toner মাঝে সাদা কাগজ দেওয়া হয় এবং সাদা কাগজের উপর রং-এর গুঁড়ো পড়তে থাকে।

Heat Fusing – রঙের গুঁড়ো পড়ার পর সাদা পাতাটিকে দুটি ঘুরতে থাকা, গরম fuser এর মধ্যে দিয়ে চাপ দিয়ে চালনা করা হয়। রং গুলো heat ও pressure র প্রভাবে সাদা কাগজে আটকে যায়।

ফিউসার কি এ নিয়ে প্রিন্টারে structure এ বলা হয়েছে।

Cleaning বা পরিষ্কার -এরপর গরম পেপারটিকে ফ্যানের সাহায্যে ঠান্ডা করা হয়।যেসব জায়গায় রং লাগেনি অর্থাৎ সাদা চার্জ বিহীন অংশগুলো থেকে রঙের গুঁড়ো সরিয়ে নেওয়া হয় এবং অন্য একটি ট্রনারে জমা করা হয়।

এই খানে, toner  যত দামি হবে সে তত ভালো কাজ করবে কারণ এই প্রক্রিয়ায় কম দামি toner এর থেকে দাগ বা রঙের ছাপ কাগজে থেকে যায়।

এরপর প্রিন্টেড কাগজটি বেরিয়ে আসে মেশিন থেকে। এই সব কাজগুলো ঘটে কয়েক মিলি-সেকেন্ডের মধ্যে।

লেজার প্রিন্টারের সুবিধা (advantages of laser printer)

  • এই লেজার প্রিন্টারের প্রিন্টে resolution ও detailing খুব ভালো থাকে।
  • প্রিন্ট করার গতি অনেক দ্রুত। এই প্রিন্টারের প্রতিটি পেজ প্রিন্টের মাঝে টাইম খুবই কম থাকে।
  • অন্যান্য প্রিন্টারের তুলনায়, এই ধরণের প্রিন্টার প্রতিবার পরিষ্কার করার দরকার পড়েনা।
  • লেজার প্রিন্টারগুলি documents print এর পাশাপাশি xerox এবং scan ও করা যায় খুব সহজে অর্থাৎ multi-functional ।

লেজার প্রিন্টার এর বৈশিষ্ট্য(characteristics)

  • টোনারের দাম তুলনামূলক বেশি হয়।  অর্থাৎ যে কালি ব্যবহার করা হয় সেটি খুবই দামি হয়ে থাকে।
  • এটি আকারে অনেকটাই বড় হওয়ায় এটি portable বা বহনযোগ্য নয়।
  • এই ধরণের প্রিন্টারে প্রিন্টের খরচ পেজ হিসাবে বেশি পরে।
  • ছবি বা প্রিন্ট খুবই স্পষ্ট হয়ে থাকে।
  • এই ধরণের প্রিন্টার গুলো সাধারণত একটু দামি হয়ে থাকে।
  • এই প্রিন্টার একবার কিনলে অনেক বছর চলে অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি হয়।
  • এই প্রিন্টারের প্রিন্ট করার গতি খুবই বেশি অর্থাৎ  উচ্চ গতি সম্পন্ন হয়ে থাকে

লেজার প্রিন্টার এর দাম (laser printer price )

এখানে কয়েকটি ভালো লেজার প্রিন্টারের দাম নিয়ে আলোচনা করা হলো।

  • Canon PIX-MA MG2570S All-in-One Inkjet Printer

দাম – 4,924 (ভারতীয় টাকা)

  • Canon Pix-ma G2000 Multi Function Inkjet Printer

দাম – 15,500 (ভারতীয় টাকা)

  • EPSON Eco-tank L3110 Multi Function Inkjet Printer

দাম – 11,499 (ভারতীয় টাকা)

  • Brother HL-L2321D Single Function Laser Printer

দাম – 8,189 (ভারতীয় টাকা)

  • Pantum P2500W Single Function Laser Printer

দাম – 8,054 (ভারতীয় টাকা)

লেজার প্রিন্টারের কালির দাম

লেজার প্রিন্টারের কালির দাম নিয়ে কাজ করতে অনেকেই হিমশীম খায় । তাদের জন্য উপায় কার্টিজ বা ট্রনারে পুনরায় কালি ভর্তি করে নিলে পুনরায় তা ব্যবহার করা যায়।

একটি কার্টিজ তিন থেকে চার বার ব্যবহার করতে পারবে এতে আপনার অনেক টাকা সাশ্রয় হবে। যেমন Cannon LBP – 1210 প্রিন্টারের কালির মুল্য ৪২০০-৫০০০/- টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে ।

কিন্তু তাতে ১৬০-২০০ টাকার কালি ভরে নিলে অনায়াশে কাজ করে নিতে পারেন । আর আপনার কাছের কম্পিউটার সার্ভিসিং এর দোকান থেকে কালি ভরে আনলে আপনার খরচ হবে ৪০০-৫০০/- টাকা ।

তবে যারা এস্কপার্ট তারা ৫০০/- টাকা নিয়ে থাকে এবং ভালভাবে কাজটি সম্পন্ন করে।

সবশেষে ,

তাহলে আজ আমরা জানলাম লেজার প্রিন্টার কি বা কাকে বলে , লেজার প্রিন্টার কিভাবে কাজ করে, ব্যবহার করার নিয়ম, লেজার প্রিন্টারের দাম এসব নিয়ে বিস্তারিত।

আলোচনা থেকে স্পষ্ট , যখন আমাদের কাছে প্রিন্ট খুবই গুরুত্তপুর্ন বিষয় হয়ে দাঁড়ায় তখন অসাধারণ প্রিন্ট কোয়ালিটি, উন্নত টেকনোলজি ,প্রিন্ট করার গতি ও দীর্ঘমেয়াদি সব ক্ষেত্রেই লেজার প্রিন্টার অন্য বিভিন্ন প্রকারভেদের প্রিন্টার গুলির তুলনায় সামনের সারিতে এসে দাঁড়ায় ।

 পড়ুন – ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার কাকে বলে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *