প্রিন্টার কি? কত-প্রকার,দাম,ব্যবহার ও কাজ

প্রিন্টার কি, কত-প্রকার, দাম, ব্যবহার ও কাজ


Printer কি ? এই প্রশ্নটি যদি আপনাকে জিগ্যেস আপনিও বলে দেবেন প্রিন্টার আসলে কি বা কাকে বলে

খুব সহজে বললে যে প্রিন্ট করে তাকেই প্রিন্টার বলে। অর্থাৎ কম্পিউটারের সাথে লাগানো যে মেশিনটি আপনার ইচ্ছেমতো যা কিছু সাদা কাগজে প্রিন্ট করে দেয় বা ছেপে দেয় সেটিই প্রিন্টার।

এখন আপনাকে যদি বলা হয় আপনার জন্য সেরা প্রিন্টার কোনটি হবে আপনি বলতে পারবেন না কারণ কোন প্রিন্টার কেমন সেটি আপনি জানেন না ,সুতরাং আপনাকে জানতে হবে প্রিন্টারের প্রকারভেদ সম্পর্কে সাথে এটাও জানতে হবে কোন প্রিন্টার কিভাবে কাজ করে

প্রথমে জেনে নিই প্রিন্টার কয় প্রকার ও কি কি

প্রিন্টারের প্রকারভেদ (types of printer)

প্রিন্টার কি,কত-প্রকার-what-is-printer-types-of-printer-in-bengali

কাজের উপর ভিত্তি করে প্রিন্টারকে মূল দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার ও নন ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার।

A. ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার (impact printer)

ইমপ্যাক্ট প্রিন্টারের কাজ হলো কোনো কাগজের উপর ধাক্কা মেরে প্রিন্ট করা। এখন প্রিন্টের যে অংশটি প্রিন্ট করে থাকে তাকে প্রিন্ট হেড বলে। এই সব প্রিন্টারে প্রিন্ট হেড কাগজ স্পর্শ করে ধাক্কা মেরে মেরে প্রিন্ট করে তাই একে ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার বলে।

ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার আবার দুই রকমের হয়ে থাকে।

1. ডেইজি হুইল প্রিন্টার (daisy wheel printer)

এই প্রিন্টারে একটি সাইকেলের চাকার মতো স্পোক লাগানো চাকা দেখা যায় যার মাথায় এক একটি করে বর্ণ লাগানো থাকে।চাকাটি ডেইজি ফুলের মতো দেখতে বলে একে ডেইজি প্রিন্টার বলে।

ডেইজি-হুইল-প্রিন্টার-what-is-daisy-wheel-printer

 কাগজের লাইন অনুযায়ী চাকাটি সরতে ও ঘুরতে পারে। বর্ণর উপরে একটি হাতুড়ি থাকে যার ধাক্কায় চাকার কেন্দ্র থেকে আসা কালি বর্ণ অনুযায়ী পাতার উপর ছাপ ফেলে দেয়।

2. ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার (dot matrix printer)

ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টারে প্রিন্ট করা হয় ডটের আকারে ,এখানে ডট আকারে একটি ম্যাট্রিক্স বা ক্ষেত্র থাকে। যার মধ্যে সারি ও কলাম বরাবর ডট সাজানো থাকে।

ডট-ম্যাট্রিক্স-প্রিন্টার-what-is-dot-matrix-printer

 ডটের আকার ছোট বলে হাতুড়ির পরিবর্তে ছোট পিন দিয়ে ডট গুলোর মাথায় আঘাত করে ডট প্রিন্টারে অক্ষর অনুযায়ী ছাপা হয় সাদা কাগজের উপর।

এই ধরণের প্রিন্টারের গতি খুবই কম তাই এর প্রিন্ট এর গতি মাপতে cps বা character per second এককের ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

B. নন ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার(non impact printer)

এই ধরণের প্রিন্টার ইমপ্যাক্ট প্রিন্টারের মতো চাপ দিয়ে কাগজের উপর ছাপা হয়না। এক্ষেত্রে কাগজে খুব আধুনিক ভাবে প্রিন্ট করা হয় যার গতিও বেশি থাকে।

নন ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার বিভিন্ন প্রকারের হয় –

  • ইঙ্কজেট প্রিন্টার 
  • থার্মাল প্রিন্টার 
  • লেজার প্রিন্টার

1. ইঙ্কজেট প্রিন্টার (inkjet printer)

Ink মানে কালি ও jet মানে জেটের মতো সরু ছিদ্র দিয়ে স্প্রে। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে এই ধরণের প্রিন্টারের কাজ সম্পর্কে। এই ধরণের প্রিন্টারে একটি nozzle এর সরু ছিদ্র দিয়ে জেটের গতিতে color স্প্রে করা হয় সাদা কাগজের উপর।

সুক্ষ স্প্রে এর ফলে কাগজের উপর বর্ণ প্রিন্ট হয়ে যায়। এই ধরণের প্রিন্টার আজকাল অফিস ,বাড়ি সর্বত্রই বহুল ব্যাবহৃত।

2. থার্মাল প্রিন্টার (thermal printer)

types-of-printer-in-bengali-প্রিন্টারের প্রকারভেদ

এটি একটি বিশেষ ধরণের প্রিন্টার যার মধ্যে প্রিন্ট হেড এর উপর মোমের গলন প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়। এই প্রিন্টারের গঠনে তিনটি জিনিস থাকে। move না করা print head ,একটি carbon ribbon বা ink এবং একটি white paper বা card যার উপর প্রিন্ট করা হয়।

তাপের প্রভাবে ink বা কালি কাগজে অক্ষরগুলি সেট হয়ে যায়।

3. লেজার প্রিন্টার (laser printer)

এই ধরণের প্রিন্টারে লেজার রশ্মি ব্যবহার করা হয় ও কালির পরিবর্তে রঙের গুঁড়ো toner-এ ভরে প্রিন্ট করা হয়।

প্রিন্টারের ব্যবহার ও কাজ (use of printer)

1. Personal use –

বাড়ির বিভিন্ন কাজে যেমন email printing ,documents printing ,greetings কার্ড প্রিন্টিং এরকম বহু ছোট খাটো personal use এর জন্য ইঙ্কজেট প্রিন্টার গুলো খুবই  বেশি পরিমানে ব্যাবহৃত।

এগুলো নির্দিষ্ট গতিতে কম সংখক high quality print করার জন্য special ভাবে design করা হয়।

2. Business purpose – 

ব্যাবসায়িক ভাবে ব্যাবহৃত প্রিন্টারগুলো খুবই চওড়া ও বড় হয়ে থাকে। বিভিন্ন ধরণের flex, poster, hoarding প্রভৃতি তৈরী বা ফটো studio তে খুবই বেশি পরিমানে ব্যাবহৃত হয়।

business purpose এ ব্যাবহৃত প্রিন্টার গুলোর রঙের কার্টিলেজগুলো একটু আলাদা ধরণের design এর হয়ে থাকে কারণ তাতে বেশি রং রাখা যায় ও heating issue থেকে বাঁচা যায়।

3. General purpose –

general purpose এ ব্যাবহৃত প্রিন্টারগুলো ভিন্ন ভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়

  • Education – শিক্ষা ক্ষেত্রে notes printing ,অন্যান্য ডকুমেন্টস প্রিন্টিং এর কাজেও প্রিন্টার ব্যাবহৃত হয়।
  • Office – অফিসের কাজে প্রিন্টার বহুল ব্যাবহৃত
  • Designing – architecture,engineering প্রভৃতি কাজে project design করার জন্য প্রিন্টার খুবই গুরুত্তপূর্ন

প্রিন্টারের দাম (printer price)

৫ হাজার থেকে শুরু করে লাখ অবধি বহু দামের প্রিন্টার রয়েছে। ইঙ্কজেট, লেজার প্রভৃতি প্রিন্টারগুলো personal কাজের জন্য ব্যাবহৃত হয়ে থাকে।

নিজের ব্যাবহারে ১০হাজারের কাছাকাছি প্রিন্টার গুলো ভালো performanceদিয়ে থাকে। প্রিন্টার কেনার সময় কার্টিলেজ, প্রিটিং স্পীড, quality এসব দেখে প্রিন্টার কেনা উচিত।

সর্বোপরী,

আজকে আপনি জানলেন প্রিন্টার কি, প্রিন্টার কত-প্রকার ও কি কি, তাদের দাম, প্রিন্টারের সাধারণ কাজ ও ব্যবহার।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *