ইউট্রোফিকেশন কাকে বলে

আপনি যদি ইউট্রোফিকেশন কাকে বলে , ইউট্রোফিকেশন এর কারণ, ইউট্রোফিকেশন কোথায় বেশি ঘটে , ইউট্রোফিকেশন এর ফলাফল এ নিয়ে যদি না জানেন আজকের এই আর্টিকেলে এই নিয়ে বিস্তারিত জানাবো
পুরো আর্টিকেলটি পড়লে আপনি সহজ ভাষায় ইউট্রোফিকেশন কী বা কাকে বলে সহ পুরো ধারণা পেয়ে যাবেন

 

ইউট্রোফিকেশন কাকে বলে

Eutrophication কথাটি এসেছে গ্রিক eutrophos থেকে যার মানে হলো well-nourished বা খুব ভালোভাবে পরিপুষ্ট

জলের মধ্যে প্রচুর ছোট ছোট শ্যাওলা জাতীয় উদ্ভিদ ও প্ল্যাঙ্কটন থাকে যেগুলো খেয়ে জলের মধ্যে থাকা প্রাণী যেমন বিভিন্ন মাছেরা বেঁচে থাকে।
ইউট্রোফিকেশন হলো একটি পদ্ধতি যেখানে জলাশয়ের মধ্যে অতিরিক্ত nutrients বা পুষ্টি উপাদান যেমন – ফসফরাস নাইট্রোজেন এর জন্য জলের মধ্যে থাকা ক্ষুদ্র শ্যাওলা জাতীয় উদ্ভিদ ও প্ল্যাঙ্কটন এর প্রচুর বৃদ্ধি ঘটে বা বেড়ে গিয়ে পুরো জল সবুজ হয়ে যায়।
সংজ্ঞা – বিভিন্ন প্রাকৃতিক বা মানুষের কার্যকলাপের ফলে জলে অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান যেমন – নাইট্রোজেন ফসফরাসের মাত্রা বেড়ে গেলে জলে থাকা শৈবাল জাতীয় উদ্ভিদ ও প্ল্যাঙ্কটন সেগুলো গ্রহণ করে দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে জলাশয়ের জলকে দূষিত করে তোলে, যার ফলে জলে বসবাসকারী প্রাণী যেমন মাছদের অক্সিজেনের অভাব ঘটে ও তারা মারা যায়। এই পুরো ঘটনাকে ইউট্রোফিকেশন বলা হয়।

 

ইউট্রোফিকেশন কয় প্রকার

ইউট্রোফিকশন মূলত দুই প্রকার –
  • প্রাকৃতিক ইউট্রোফিকেশন (natural eutrophication)
  • অ্যানথ্রোপোজেনিক ইউট্রোফিকেশন (anthropogenic)

1. অ্যানথ্রোপোজেনিক ইউট্রোফিকেশন (anthropogenic)

 এই ধরণের ইউট্রোফিকেশন মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপের জন্য হয়ে থাকে। যেমন –
  • জমিতে সার প্রয়োগ করলে
  • নর্দমার জল জলাশয়ে মিশলে
  • জলাশয়ে ডিটারজেন্ট ,সাবান জাতীয় মেশার ফলে

2. প্রাকৃতিক ইউট্রোফিকেশন (natural eutrophication)

বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপায়ে ঘটে থাকা ইউট্রোফিকেশনের ঘটনাকে প্রাকৃতিক ইউট্রোফিকেশন এর মধ্যে ধরা হয়। যেমন -বন্যার ফলে জমির জল জলাশয়ে মিশলে সেখানে থাকা nutrients এর জন্য শৈবাল বৃদ্ধি পায়।
প্রাকৃতিক ইউট্রোফিকেশন অ্যানথ্রোপোজেনিক এর তুলনায় অনেক ধীর গতিতে ঘটে
এই ধরণের প্রাকৃতিক ইউট্রোফিকেশন অনেক সময় প্রাকৃতিক তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে
এরপর আমরা জেনে নেবো ইউট্রোফিকেশন কিভাবে হয় বা কেন হয় ?

 

ইউট্রোফিকেশন কিভাবে হয় (how eutrophication occurs)

ইউট্রোফিকেশন-কাকে-বলে-ইউট্রোফিকেশন-এর-কারণ
জলের মধ্যেকার বাস্তুতন্ত্রে জলের মধ্যে থাকা প্রাণীরা শৈবাল জাতীয় উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে আর জলের মধ্যে থাকা অক্সিজেন তারা শ্বাস হিসাবে গ্রহণ করে
এখন আমরা জানি সবুজ উদ্ভিদ মাত্রই সালোকসংশ্লেষ হয়
এখন বিভিন্ন কারণে ,যেমন -জলে সার বা ডিটারজেন্ট মিশলে জলে যে খনিজ গুলো ছিল যেমন ফসফরাস পটাসিয়াম নাইট্রোজেন তাদের মাত্রা বেড়ে যায়
এখন এই শৈবাল বা প্ল্যাঙ্কটন ওই জলের মধ্যে থাকা খনিজ , অক্সিজেন নিয়ে আর সূর্যালোকের সাহায্যে প্রচুর পরিমানে বাড়ে ও সালোকসংশেষ এর মাত্রাও বেড়ে যায়।
ওই শৈবালগুলো জলের উপরে ভেসে ওঠে পুরো জলকে দূষিত করে সাথে বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন জলে মিশতে পারেনা কারণ জলের উপর সবুজ লেয়ার যায় ,যা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
জলের উপরের ভেসে থাকা সবুজ লেয়ারকে অ্যালগাল ব্লুম বলা হয়ে থাকে। এই অ্যালগাল ব্লুমের মধ্যে থাকা মৃত শৈবাল গুলো ভারী হয়ে জলের নিচে চলে যায় যাকে অ্যালগাল বায়োমাস (algal biomass) বলে
এই মৃত শৈবালের স্তূপকে জলের মধ্যে থাকা ব্যাকটেরিয়া পচিয়ে বা decompose করে ফেলে যার জন্য অক্সিজেনের দরকার হয়।
ফলে জলে অক্সিজেনের অভাব হয়। জলের মধ্যে অক্সিজেনের অভাবকে BOD বা বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিম্যান্ড (biological oxygen demand ) বলা হয়।

 

ইউট্রোফিকেশন এর কারণ

ইউট্রোফিকশনের হওয়ার পিছনে প্রাকৃতিক ও মনুষ্যঘটিত উভয় কারণগুলোর সম্মিলিত রূপ হলো –
  • জমির সার ধোয়া জলের মিশ্রণ – জমিতে দেওয়া পটাসিয়াম ,ফসফরাস ঘটিত সার দিলে বন্যার জলের মাধ্যমে বা বিভিন্ন ভাবে তা জলাশয়ের জলে মিশলে ইউট্রোফিকেশন হয়
  • জলাশয়ে জামাকাপড় ধোয়ার ফলে– জলাশয়ে জামাকাপড় পরিষ্কার করলে সেখান থেকে সাবান ডিটারজেন্ট জলে মেশে যা ইউট্রোফিকেশন এর বড় কারণ।
  • নর্দমার জল জলাশয়ে মিশলে – নর্দমা বা ড্রেনের জলে বিভিন্ন বস্তু মেশার ফলে প্রচুর পরিমানে nutrients থাকে যা জলে মিশলে ইউট্রোফিকেশন ঘটে।
  • কারখানার বর্জ্র মেশার ফলে – কারখানার বর্জ্র জলাশয়ে পড়লে সেখানে থাকা minerals জলে মিশে ইউট্রোফিকেশন ঘটায়।

ইউট্রোফিকেশন কোথায় বেশি ঘটে

ইউট্রোফিকেশন মূলত নিচে লেখা জায়গাগুলোতে বেশি হয়ে থাকে –

  • যে জায়গায় জল বদ্ধ অবস্থায় থাকে যেমন- পুকুর ,ডোবা ,ছোট জলাশয়ে বেশি হয়। কারণ শৈবাল বেশি জমে থাকতে পারে।
  • যেখানে জল বয়ে চলে যেমন – নদীতে শৈবাল জন্মানোর সম্ভাবনা কম থাকে ফলে এখানে ইউট্রোফিকেশন ঘটার সম্ভাবনা কম।
  • জমির কাছাকাছি থাকা জলাশয়ে ইউট্রোফিকেশন ঘটার সম্ভাবনা বেশি থাকে
  • যে সব পুকুর বা জলাশয় বেশি ব্যবহার হয়না সেখানে ইউট্রোফিকেশন বেশি ঘটে
  • ইউট্রোফিকেশন ঘটার আরো উপযুক্ত জায়গা হতে পারে কারখানার পাশাপাশি অব্যাবহার্য্য জলাশয়

ইউট্রোফিকেশন এর ফলাফল

ইউট্রোফিকেশন-কাকে-বলে-ইউট্রোফিকেশন-এর-ফলাফল

  • BOD বা বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিম্যান্ড বৃদ্ধি – ইউট্রোফিকেশন এর ফলে জলে থাকা ব্যাকটেরিয়া শৈবালের বিয়োজন ঘটে যা অক্সিজেনের অভাব সৃষ্টি করে ফলে বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
  • জলজ বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হওয়া – আমরা জানি বাস্তুতন্ত্রে থাকা প্রত্যেকটি প্রাণী একে অপরের উপর খাবার বাসস্থানের উপর নির্ভরশীল। এখন জলজ বাস্তুতন্ত্রে অক্সিজেনের অভাবে মাছ মারা গেলে অন্যান্য প্রাণীদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে ফলে পুরো জলজ বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হয়ে যাবে
  • জলে বিষক্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়া -জলে অনেক সময় অনেক ক্ষতিকারক শৈবাল থাকে যা ইউট্রোফিকেশন এর ফলে বেড়ে গেলে জল খুবই বেশি toxic হয়ে যায়
  • পান ও ব্যবহারের অনুপোযোগী – ইউট্রোফিকেশন এর ফলে জল খাওয়া তো  দূরের কথা জল সাধারণ ব্যবহারেরও অনুপযোগী হয়ে যায়

সবশেষে

তাহলে আজ আমরা জানলাম ইউট্রোফিকেশন কাকে বলে ,ইউট্রোফিকেশন এর কারণ, ইউট্রোফিকেশন কোথায় বেশি ঘটে , ইউট্রোফিকেশন এর ফলাফল এই সব নিয়ে বিস্তারিত

Hey, I’m Priyabrata, a professional blogger & content writer by passion. A guy from the crowded streets of Bengal, who believes in everybody’s potential to win in life.

Leave a Comment